Skip to content
Home » Blog » ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ / খিদমাহ বিত তিজারাহ – পরিচিতি ও নীতিমালা

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ / খিদমাহ বিত তিজারাহ – পরিচিতি ও নীতিমালা

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর মেহেরবানীতে আমাদের সমিতির নতুন অধিবেশনের বয়স প্রায় এক বছর হতে চলেছে। আমাদের সমিতির অন্যতম লক্ষ ও উদ্দেশ্য হলো সহযোগীতা করা সেবা প্রদান। তো সেই মূলনীতিকে সামনে রেখে আমাদের নতুন সেবা চালু হতে যাচ্ছে ”ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ”।

সেবার নামঃ ”খিদমাহ বিত তিজারাহ”, (সদস্যদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ সেবা)।

এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ সেবার লক্ষঃ
আমরা সকলেই কওমী মাদরাসার ছাত্র বা শিক্ষক, আমাদের আয় মধ্যম/নিম্ন স্তরের, পারিবারিক জীবনে নিজের জন্য, সন্তান-সন্ততির জন্য, পিতামাতার জন্য, পরিবারের জন্য নানান আসবাব পত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু একত্রে এত টাকা খরচ করা আমাদের জন্য কষ্টের হয়ে উঠে, তাই উলামায়ে কেরামের এই কষ্টকে লাঘব করার লক্ষে আমরা নাম মাত্র লাভ রেখে উলামায়ে কেরামের কাছে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছি। আশা করি এর দ্বারা প্রতিষ্ঠান ও সদস্য উভয় লাভবান হবে ইনশাআল্লাহ।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ এর সুরতে হাল এমন হবেঃ
আব্দুল্লাহ সাহেব নতুন বিয়ে করেছেন, ঘরের অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের মাঝে একটি হলো ওয়াশিং মেশিন। ১৫ হাজার টাকার মতো লাগবে, কিন্তু উনার মাদরাসায় হাদিয়াই হলো ১০ হাজার। তাহলে কি করা যায়? হ্যা, উনি মুনাজ্জামাতুল আসদিক্বার সদস্য হওয়ায় সমিতির পক্ষ হতে ওকীল হয়ে আব্দুর রহমান সাহেব একটি ওয়াশিং মেশিন কিনেন ১৫,৫০০ টাকা দিয়ে। তারপর (বাইয়ে মুরাবাহার ভিত্তিতে) অল্প মূল্য বৃদ্ধি করে ১৬,৩০০ টাকায় আব্দুল্লাহ সাহেবের কাছে বিক্রি করে দেন। এটিই হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণের সুরত।
আলহামদুলিল্লাহ, আব্দুল্লাহ সাহেব কোন কষ্ট ছাড়াই ১০ মাসের মাঝে পুরো টাকা পরিশোধ করে দেন। উনি পরিবার নিয়ে এবার বেশ খুশি।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ এর জন্য করণীয়ঃ
১. আপনার প্রয়োজন বানিজ্যিক সম্পাদকের সাথে ফোনে বা ফেইসবুকে বলুন।
২. সম্পাদকের কাছে অবশ্যই জিনিসের আনুমানিক মূল্য ও কত দিনের ভিতরে টাকা দিতে পারবেন তা উল্লেখ করুন।
৩. আপনার কাছে এমন এজন ব্যক্তি থাকতে হবে যে আমাদের পক্ষ হতে আপনার কাছে পণ্যটি বিক্রি করতে পারবে।
৪. সম্পাদকের সাথে কথা ফাইনাল হলে আমাদের পক্ষ হতে উক্ত ওকীলের কাছে আমাদের অর্থ বুঝিয়ে দিব। তারপর উনি কিনে আপনার কাছে (বাইয়ে মুরাবাহার ভিত্তিতে) ২য় বার বিক্রি করে দিবেন।

পরিচয় ও শর্তাবলীঃ
১. এই ব্যবসার সুবিধা শুধু সদস্যগণ পাবেন।
২. একসাথে এক বা একাধিক ব্যবসায় সর্বোচ্চ টাকার পরিমান হতে পারবে ২০,০০০/- (দশ হাজার) (টাকা প্রদানের সর্বোচ্চ পরিমান সমিতির বয়সের সাথে বাড়তে থাকবে)।
৩. অন্য কোন সদস্যের (সমিতি কর্তৃপক্ষ ব্যতীত) জিম্মাদারীতে ৪০,০০০/- পর্যন্ত ব্যবসা করার সুজোগ থাকবে।
৪. মাসিক কিস্তির মাধ্যমে টাকা দিতে হবে, হ্যা কেউ চাইলে অগ্রীম জমা দিতে পারবে।
৫. যখন পণ্য কিনবে তখন প্রথম মাসের কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। (সর্বোচ্চ ৭ দিনের ভিতরে)।
৬. সর্বোচ্চ কিস্তির পরিমান থাকবে ১০ টি। প্রতি ইংরেজি মাসেরে ১০ তারিখ কিস্তির আদায়ের শেষ দিন থাকবে। যে কোন মাসের ২৫ তারিখের আগে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদন হলে পরের ১০ তারিখে কিস্তি দিতে হবে, ২৫ তারিখের পর হলে ওই মাসের কিস্তি দেয়া লাগবে না।
৭. সময় মতো টাকা/কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে উক্ত ব্যক্তির রেকর্ডে তা উল্লেখ করে রাখা হবে; যা পরবর্তী লেন-দেনের সময় যাচাই করে টাকা দেয়া হবে।৮. এই ব্যবসার জন্য কোন ফরম পূরণ করতে হবে না, অর্থাৎ কোন যাচাই/ফরমালিটি হবে না।
৯ এই ব্যবসার প্রক্রিয়াটা অতি সহজ করা হবে, জানানোর ২৪ ঘন্টার মাঝেই উক্ত পণ্য পৌছে দিতে চেষ্ঠা করা হবে।
১০. টাকা দেয়ার ফাইনাল সিদ্ধান্ত সমিতি কর্তৃপক্ষ নিবে, তাই যে কোন কারণে/অকারণে ব্যবসা প্রত্যাহর করলে তার জন্য কোন ধরনের পরিবেশ ঘোলাটে করা যাবে না।
১১. ব্যবসা গ্রহন/প্রত্যাহার বিশেষভাবে সমিতির বর্তমান ব্যালেন্সের উপর নির্ভর করবে।
১২. সমিতিকে টাকা প্রদানের যাবতীয় খরচ সদস্যকর্তৃক বহন করবে।
১৩. টাকা নেয়ার পর সর্বোচ্চ ৩ দিনের ভিতরে ওকীলের মাধ্যমে ব্যবসা সম্পাদন করে হিসাব জমা দিতে হবে।
১৪. টাকা নেয়ার পর ৩ দিন অতিক্রম হলে ৫ম দিনের ভিতরে টাকা ফেরত পাঠাতে হবে।
১৫. প্রত্যেক মাসের ৫ তারিখ হতে ব্যবসায়ী সম্পাদক সাহেব যাদের কাছে কিস্তি রয়েছে তাদের সবাইকে ফোন দিয়ে টাকা চাইতে থাকবেন। ১২ তারিখ পর্যন্ত যারা কিস্তি পরিশোধ করেনি তাদের নাম সহ লিস্ট দিবেন সাধারণ সম্পাদকের কাছে। সম্পাদক সভাপতির সাথে পরামর্শ ক্রমে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

পণ্য বিবরণীঃ
১. আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস অবশ্যই কোন পণ্য হতে হবে যা আপনার বা আপনার নিকট আত্মীয়ের প্রয়োজন, যেমন ফোন, লেপটপ, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ইত্যদি।
২. আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস কোন ধরনের সেবা হতে পারবে না, যেমন, বিদ্যুত বিল, আপনার জমি কেনার কিস্তি, আপনার বাসা ভাড়া, আপনার কোন কোম্পানীতে ইনভেস্ট, আপনার কোন ব্যবসা, আপনার ব্যাংকের ঋণ ইত্যাদি।

3 thoughts on “ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঋণ / খিদমাহ বিত তিজারাহ – পরিচিতি ও নীতিমালা”

  1. Pingback: ক্ষুদ্র ব্যবসা – মুনাজ্জামাতুল আসদিক্বা

  2. মো. মান্নান শেখ

    অনেক ভাল ব্যবস্থা করেছেন মানুষ উপকৃত হবে বলে আশা করি।

  3. আমি Md. Mizanur Rahman থেকে

    আপনাদের সমিতির একজন সদস্য,
    আমার মাসিক আয় ১২-১৫ হাজার, কিন্তু পরিবার পরিচালনা বাদে এক মাসে পণ্য টি কিনা সম্ভব নয়।
    সমিতির ক্ষুদ্র ব্যবসার ভিত্তিতে পণ্য কিনতে চাচ্ছি মূল্য ৪০,০০০ টাকার মতো হবে।

    আমার সাথে আরও একজন সদস্য আছে যার মাধ্যমে ওয়াকালতীর ভিত্তিতে আমি অতি সহজেই ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন করতে পারব ইনশা আল্লাহ।

    পণ্যটি আমার খুবই জরুরী দরকার জানালে ভালো হয়।
    জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *